হার্ট অ্যাটাক বা Heart Attack (Myocardial Infarction) একটি গুরুতর ও জীবনঝুঁকিপূর্ণ হৃদরোগজনিত জরুরি অবস্থা। হৃদপিণ্ডের পেশিতে রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহকারী করোনারি ধমনীর রক্তপ্রবাহ আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে বাধাগ্রস্ত হলে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। এই অবস্থায় দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ যত বেশি সময় রক্তপ্রবাহ বন্ধ থাকে, হৃদপিণ্ডের ক্ষতির সম্ভাবনাও তত বাড়তে পারে।
অনেক মানুষ হার্ট অ্যাটাককে শুধু তীব্র বুকব্যথা হিসেবে ভাবেন। কিন্তু বাস্তবে এর উপসর্গ ব্যক্তি ভেদে আলাদা হতে পারে। কারও ক্ষেত্রে বুকে চাপ বা ভারী অনুভূতি প্রধান লক্ষণ হতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক ঘাম, বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা, চোয়াল বা পিঠে ব্যথা কিংবা অস্বাভাবিক দুর্বলতাও গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত হতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে কিছু উপসর্গ তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যেতে পারে, যেমন শ্বাসকষ্ট, বমি বমি ভাব, পিঠ বা চোয়ালে অস্বস্তি এবং অস্বাভাবিক ক্লান্তি।
এই কারণে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা শুধু নিজের জন্য নয়, পরিবারের সদস্যদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
জরুরি সতর্কতা: বুকের মাঝখানে চাপ/ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা অথবা ব্যথা হাত, চোয়াল, ঘাড়, পিঠ বা পেটের দিকে ছড়িয়ে পড়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে অপেক্ষা করবেন না। বাংলাদেশে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে জরুরি সহায়তা চাওয়া যায়।
হার্ট অ্যাটাক কী?
হার্ট অ্যাটাককে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় Myocardial Infarction (MI) বলা হয়। হৃদপিণ্ড নিজে কাজ করার জন্য করোনারি ধমনীর মাধ্যমে রক্ত ও অক্সিজেন পায়। কোনো কারণে এই ধমনীর ভেতর রক্তপ্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে গেলে বা বন্ধ হয়ে গেলে হৃদপেশির একটি অংশ পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না।
দীর্ঘ সময় রক্তপ্রবাহ বন্ধ থাকলে সেই অংশের হৃদপেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। তাই হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। Acute Coronary Syndrome বা ACS-এর ক্ষেত্রে ধমনীর ভেতরের plaque বা চর্বিজাতীয় জমাট অংশ ভেঙে গিয়ে রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এবং এর ফলে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।
হার্ট অ্যাটাক এবং Cardiac Arrest (হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়া) একই বিষয় নয়। হার্ট অ্যাটাকে সাধারণত হৃদপিণ্ডের কোনো অংশে রক্তপ্রবাহের সমস্যা হয়, আর cardiac arrest-এ হৃদপিণ্ড কার্যকরভাবে রক্ত পাম্প করা বন্ধ করে দেয়। তবে হার্ট অ্যাটাক cardiac arrest-এর মতো গুরুতর অবস্থার দিকে নিয়ে যেতে পারে।
হার্ট অ্যাটাকের প্রধান লক্ষণগুলো কী?
হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ হঠাৎ তীব্রভাবে শুরু হতে পারে, আবার কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে হালকা অস্বস্তি দিয়ে শুরু হতে পারে। কখনও উপসর্গ কিছু সময় থাকার পর কমে গিয়ে আবার ফিরে আসতে পারে। তাই “ব্যথা খুব বেশি নয়” বলে এটিকে উপেক্ষা করা নিরাপদ নয়।
১. বুকে চাপ, ব্যথা বা অস্বস্তি
এটি হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত।
বুকে অনুভূতি হতে পারে:
- চাপ বা ভারী লাগা
- বুক চেপে ধরা
- বুক শক্ত হয়ে আসা
- জ্বালাপোড়া
- ব্যথা বা অস্বস্তি
- বুকের মাঝখানে অস্বাভাবিক চাপ
কিছু ক্ষেত্রে মানুষ এটিকে গ্যাস, অম্বল বা indigestion ভেবে ভুল করতে পারেন। কিন্তু বুকের অস্বস্তির সঙ্গে অন্য উপসর্গ থাকলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা জরুরি।
২. হাত, কাঁধ, পিঠ, ঘাড় বা চোয়ালে ব্যথা
হার্ট অ্যাটাকের অস্বস্তি শুধু বুকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। এক বা দুই হাত, কাঁধ, পিঠ, ঘাড়, চোয়াল বা উপরের পেটেও ব্যথা বা চাপ অনুভূত হতে পারে।
৩. শ্বাসকষ্ট
বুকব্যথা না থাকলেও শ্বাসকষ্ট হার্ট অ্যাটাকের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে হঠাৎ শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া এবং এর সঙ্গে দুর্বলতা, ঘাম বা বুকের অস্বস্তি থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত।
৪. ঠান্ডা ঘাম
অতিরিক্ত বা অস্বাভাবিক ঠান্ডা ঘামও হার্ট অ্যাটাকের সতর্ক সংকেত হতে পারে। যদি ঘামের সঙ্গে বুকের চাপ, শ্বাসকষ্ট বা মাথা ঘোরা থাকে, তাহলে এটিকে সাধারণ ঘাম হিসেবে উপেক্ষা করা উচিত নয়।
৫. বমি বমি ভাব বা বমি
বিশেষ করে কিছু নারীর ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের সময় বমি বমি ভাব, বমি বা পেটের অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। এসব লক্ষণ একা থাকলে কারণ বোঝা কঠিন হতে পারে, কিন্তু অন্য সতর্ক সংকেতের সঙ্গে থাকলে দ্রুত মূল্যায়ন প্রয়োজন।
৬. মাথা ঘোরা বা হালকা লাগা
হঠাৎ মাথা ঘোরা, দুর্বল লাগা বা অস্বাভাবিক lightheadedness-ও হার্ট অ্যাটাকের সঙ্গে দেখা দিতে পারে।
৭. অস্বাভাবিক ক্লান্তি
কিছু মানুষের ক্ষেত্রে বিশেষ করে নারীদের মধ্যে অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা দুর্বলতা হার্ট অ্যাটাকের সতর্ক সংকেত হতে পারে। স্বাভাবিক কাজের পর যে ধরনের ক্লান্তি হয় তার চেয়ে এটি আলাদা হতে পারে।
নারীদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ কি আলাদা?
হার্ট অ্যাটাকের সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ হলো বুকের ব্যথা বা অস্বস্তি, এবং এটি নারীদের মধ্যেও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। তবে নারীদের ক্ষেত্রে কিছু অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত উপসর্গও দেখা যেতে পারে।
যেমন:
- শ্বাসকষ্ট
- বমি বমি ভাব বা বমি
- পেটের অস্বস্তি
- পিঠে ব্যথা বা চাপ
- চোয়ালে ব্যথা
- কাঁধ বা হাতে অস্বস্তি
- অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা দুর্বলতা
- উদ্বেগ বা অস্বাভাবিক অস্থিরতা
এ কারণে নারীর ক্ষেত্রে শুধু “তীব্র বুকব্যথা হচ্ছে কি না” দেখে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বিচার করা ঠিক নয়।
হার্ট অ্যাটাক ও গ্যাসের ব্যথা কি একই রকম হতে পারে?
অনেক সময় বুক জ্বালাপোড়া বা বুকের অস্বস্তিকে মানুষ গ্যাস বা অ্যাসিডিটি বলে ধরে নেন। সত্যিই বুকের ব্যথার অনেক কারণ থাকতে পারে এবং সব বুকব্যথা হার্ট অ্যাটাক নয়। তবে সমস্যা হলো, শুধুমাত্র উপসর্গ শুনে নিজেরা নিশ্চিতভাবে বোঝা কঠিন যে ব্যথাটি হৃদযন্ত্রের কারণে হচ্ছে নাকি অন্য কারণে।
বিশেষ করে বুকের অস্বস্তির সঙ্গে যদি:
- শ্বাসকষ্ট,
- ঠান্ডা ঘাম,
- বমি বমি ভাব,
- মাথা ঘোরা,
- হাত বা কাঁধে ব্যথা,
- চোয়াল বা পিঠে ব্যথা
থাকে, তাহলে এটিকে শুধু গ্যাস ধরে নিয়ে ঘরে বসে থাকা উচিত নয়।
বুকব্যথা হলে নিজে diagnosis না করে চিকিৎসকের মূল্যায়ন নেওয়াই নিরাপদ।
কারা হার্ট অ্যাটাকের বেশি ঝুঁকিতে?
হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি একাধিক বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। বিশেষ করে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে এমন কিছু স্বাস্থ্য ও জীবনযাপনের বিষয় রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির বিষয়গুলো হলো:
- উচ্চ রক্তচাপ
- উচ্চ কোলেস্টেরল
- ডায়াবেটিস
- ধূমপান
- অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা
- শারীরিকভাবে কম সক্রিয় থাকা
- অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস
- পারিবারিক হৃদরোগের ইতিহাস
- বয়স বাড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত ঝুঁকি
- দীর্ঘমেয়াদি কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা
একাধিক ঝুঁকি একসঙ্গে থাকলে ব্যক্তির সামগ্রিক cardiovascular risk আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
তাই শুধু বুকব্যথা হলে চিকিৎসা নেওয়ার পরিবর্তে ঝুঁকির কারণগুলো সম্পর্কে আগে থেকেই সচেতন হওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
হার্ট অ্যাটাক সন্দেহ হলে কী করবেন?
হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাব্য লক্ষণ দেখা দিলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দেরি না করা।
ধাপ ১: জরুরি সহায়তা নিন
বাংলাদেশে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে জরুরি সহায়তা চাওয়া যায়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী ৯৯৯-এর মাধ্যমে জরুরি সেবা ও অ্যাম্বুলেন্স-সংক্রান্ত সহায়তা পাওয়া যায়।
ধাপ ২: নিজে গাড়ি চালাবেন না
হার্ট অ্যাটাকের সন্দেহ হলে নিজে গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পরিবর্তে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা নেওয়া ভালো। EMS পথে চিকিৎসা শুরু করতে পারে এবং হাসপাতালে পৌঁছানোর পর দ্রুত মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়।
ধাপ ৩: ব্যক্তিকে আরামদায়ক অবস্থায় রাখুন
অতিরিক্ত হাঁটাহাঁটি বা শারীরিক পরিশ্রম না করে নিরাপদ ও আরামদায়ক অবস্থায় অপেক্ষা করুন এবং জরুরি সেবার নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
ধাপ ৪: aspirin সম্পর্কে সতর্ক থাকুন
প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির acute non-traumatic chest pain-এর ক্ষেত্রে কিছু first-aid guideline অনুযায়ী সচেতন ব্যক্তি aspirin চিবিয়ে খেতে পারেন, যদি aspirin allergy না থাকে এবং কোনো স্বাস্থ্যকর্মী আগে থেকে aspirin এড়াতে না বলে থাকেন। তবে এ বিষয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে জরুরি সেবা/চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুসরণ করাই নিরাপদ।
নিজে থেকে অন্য কোনো ওষুধ, painkiller বা “গ্যাসের ওষুধ” দিয়ে অপেক্ষা করা উচিত নয়।
কেউ অজ্ঞান হয়ে গেলে কী করবেন?
যদি সম্ভাব্য হার্ট অ্যাটাকের পর কোনো ব্যক্তি হঠাৎ অচেতন হয়ে যান এবং স্বাভাবিকভাবে শ্বাস না নেন বা শুধু gasping করেন, এটি cardiac arrest হতে পারে। এমন অবস্থায় তাৎক্ষণিক জরুরি সহায়তা ডাকা এবং প্রশিক্ষিত হলে CPR শুরু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। AED পাওয়া গেলে সেটির নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
বাংলাদেশে জরুরি সহায়তার জন্য ৯৯৯ জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর।
হাসপাতালে হার্ট অ্যাটাক কীভাবে নির্ণয় করা হয়?
হার্ট অ্যাটাক নিশ্চিত করার জন্য চিকিৎসক রোগীর উপসর্গ, শারীরিক অবস্থা এবং বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফল বিবেচনা করেন।
প্রধান পরীক্ষার মধ্যে থাকতে পারে:
ECG বা EKG
Electrocardiogram (ECG/EKG) হৃদযন্ত্রের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ রেকর্ড করে এবং হার্ট অ্যাটাকের ধরন ও হৃদযন্ত্রের পরিবর্তন মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
Troponin Blood Test
রক্তে cardiac troponin পরীক্ষা করা হয়। হৃদপেশির ক্ষতি হলে troponin-এর মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। High-sensitivity troponin বর্তমানে acute myocardial infarction মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ biomarker হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
Echocardiogram
Echo-এর মাধ্যমে হৃদপিণ্ডের গঠন ও পাম্পিং কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
Coronary Angiogram
করোনারি ধমনীর কোথায় এবং কতটা blockage রয়েছে তা নির্ণয় করতে coronary angiography করা হতে পারে।
পরিস্থিতি অনুযায়ী CT, MRI, stress test বা অন্যান্য পরীক্ষাও প্রয়োজন হতে পারে।
হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসা কীভাবে হয়?
হার্ট অ্যাটাকের ধরন, blockage-এর অবস্থান, রোগীর সামগ্রিক স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য বিষয়ের ওপর চিকিৎসা নির্ভর করে।
হাসপাতালে চিকিৎসার উদ্দেশ্য সাধারণত হলো:
- হৃদপিণ্ডে রক্তপ্রবাহ পুনরুদ্ধার করা
- হৃদপেশির ক্ষতি কমানো
- রক্ত জমাট বা blockage নিয়ন্ত্রণ করা
- হৃদযন্ত্রের rhythm পর্যবেক্ষণ করা
- ভবিষ্যতে আবার cardiovascular event-এর ঝুঁকি কমানো
কিছু রোগীর ক্ষেত্রে ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়, আবার কিছু ক্ষেত্রে coronary intervention বা angioplasty/stent-এর মতো procedure প্রয়োজন হতে পারে। কোন চিকিৎসা উপযুক্ত হবে তা চিকিৎসক নির্ধারণ করেন।
হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসা কখনোই অনলাইনে বা নিজের সিদ্ধান্তে নির্ধারণ করা উচিত নয়।
হার্ট অ্যাটাকের পর কীভাবে সুস্থ থাকবেন?
হার্ট অ্যাটাকের পর চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী দীর্ঘমেয়াদি care অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু হাসপাতালে চিকিৎসা শেষ হলেই বিষয়টি শেষ হয়ে যায় না।
১. চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ নিয়মিত নিন
হার্ট অ্যাটাকের পর নির্ধারিত ওষুধ নিজের ইচ্ছায় বন্ধ করা বা ডোজ পরিবর্তন করা উচিত নয়।
২. ধূমপান বন্ধ করুন
ধূমপান cardiovascular health-এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির বিষয়। ধূমপান বন্ধ করা হৃদযন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
৩. স্বাস্থ্যকর খাবার খান
খাদ্যতালিকায় বেশি সবজি, ফল, স্বাস্থ্যকর শস্য ও উপযুক্ত protein রাখার পাশাপাশি saturated fat, trans fat, অতিরিক্ত লবণ ও added sugar কমানোর বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করা যেতে পারে।
৪. নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম
শারীরিক কার্যক্রম শুরু করার আগে হার্ট অ্যাটাকের পর আপনার চিকিৎসক বা cardiac rehabilitation team-এর নির্দেশনা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। American Heart Association-এর তথ্য অনুযায়ী সাধারণ cardiovascular health-এর জন্য সপ্তাহে অন্তত 150 মিনিট moderate-intensity physical activity একটি প্রচলিত লক্ষ্য, তবে হার্ট অ্যাটাকের পর ব্যক্তিগত পরিকল্পনা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হওয়া উচিত।
৫. রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করুন
উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ cholesterol এবং diabetes থাকলে সেগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখা দীর্ঘমেয়াদি হৃদস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
৬. পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম
পর্যাপ্ত ঘুম ও স্বাস্থ্যকর দৈনন্দিন রুটিন হৃদস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়ক। AHA-এর patient guidance-এ নিয়মিত ঘুম এবং নিয়মিত medical check-up-এর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে কী কী অভ্যাস গড়ে তুলবেন?
সব হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। তবে অনেক cardiovascular risk factor নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ঝুঁকি কমানো যায়।
যেসব অভ্যাস উপকারী হতে পারে:
- ধূমপান ও vaping এড়ানো
- নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম
- স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা
- অতিরিক্ত লবণ কমানো
- অস্বাস্থ্যকর চর্বি কমানো
- বেশি স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ
- রক্তচাপ নিয়মিত পরীক্ষা
- cholesterol পরীক্ষা
- diabetes থাকলে blood sugar নিয়ন্ত্রণ
- নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা
- চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ
- পারিবারিক হৃদরোগের ইতিহাস থাকলে চিকিৎসকের সঙ্গে cardiovascular risk নিয়ে আলোচনা
AHA-এর patient guidance-এ ধূমপান এড়ানো, রক্তচাপ ও cholesterol নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যকর খাবার, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা, স্বাস্থ্যকর ওজন, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত check-up-এর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
কখন কার্ডিওলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত?
আপনার যদি বারবার বুকব্যথা, বুক ধড়ফড়, শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, উচ্চ রক্তচাপ, diabetes, high cholesterol বা পরিবারের হৃদরোগের ইতিহাস থাকে, তাহলে cardiovascular risk মূল্যায়নের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
বিশেষ করে বুকের ব্যথা বারবার হলে সেটিকে শুধু গ্যাস বা acidity হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। বুকব্যথার বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে এবং চিকিৎসকের মূল্যায়নের মাধ্যমে গুরুতর কারণগুলো বাদ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
হার্ট অ্যাটাক নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন
হার্ট অ্যাটাকের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ কী?
বুকের মাঝখানে চাপ, ভারী লাগা, squeezing বা ব্যথা হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম সাধারণ লক্ষণ। এর সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, ঘাম, বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা অথবা হাত, পিঠ, ঘাড় বা চোয়ালে অস্বস্তি থাকতে পারে।
হার্ট অ্যাটাক কি শুধু বয়স্কদের হয়?
না। বয়স বাড়ার সঙ্গে ঝুঁকি বাড়তে পারে, কিন্তু তুলনামূলক কম বয়সেও cardiovascular risk factor থাকলে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।
গ্যাস আর হার্ট অ্যাটাকের ব্যথা কীভাবে বুঝব?
নিজে থেকে নিশ্চিতভাবে পার্থক্য করা সবসময় সম্ভব নয়। বুকের অস্বস্তি বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, ঘাম, বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা বা শরীরের অন্য অংশে ব্যথা থাকলে জরুরি চিকিৎসা নেওয়া উচিত।
হার্ট অ্যাটাকের সময় কি সবসময় তীব্র ব্যথা হয়?
না। কিছু হার্ট অ্যাটাক হঠাৎ ও তীব্রভাবে শুরু হলেও কিছু ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে হালকা অস্বস্তি দিয়ে শুরু হতে পারে।
নারীদের হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ কী?
বুকের অস্বস্তির পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট, বমি বমি ভাব, পিঠ বা চোয়ালে ব্যথা, অস্বাভাবিক ক্লান্তি ও দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।
হার্ট অ্যাটাক সন্দেহ হলে কোথায় ফোন করব?
বাংলাদেশে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে জরুরি সহায়তা চাওয়া যায়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী ৯৯৯-এর মাধ্যমে জরুরি সেবা ও অ্যাম্বুলেন্স-সংক্রান্ত সহায়তা পাওয়া যায়।
শেষ কথা
হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বুকের চাপ বা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা অথবা হাত, কাঁধ, পিঠ, ঘাড় বা চোয়ালে অস্বস্তির মতো লক্ষণ দেখা দিলে সেটিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।
একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, সব বুকব্যথা হার্ট অ্যাটাক নয় এবং অনলাইনে পড়ে নিজে রোগ নির্ণয় করা নিরাপদ নয়। উপসর্গ অনুযায়ী দ্রুত চিকিৎসা মূল্যায়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
MM Doctor Information Media-এর স্বাস্থ্য পরামর্শ প্ল্যাটফর্মে হৃদরোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য বিষয় সম্পর্কে সহজ ভাষায় তথ্য জানার পাশাপাশি প্রয়োজনে আপনার জন্য উপযুক্ত বিশেষজ্ঞ ডাক্তার খুঁজে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
নিজের ও পরিবারের হৃদস্বাস্থ্যের ব্যাপারে সচেতন থাকুন। আর জরুরি লক্ষণ দেখা দিলে তথ্য খুঁজতে সময় নষ্ট না করে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিন।
এই লেখাটি সাধারণ স্বাস্থ্য সচেতনতার জন্য। এটি কোনো ব্যক্তিগত চিকিৎসা-পরামর্শ, রোগ নির্ণয় বা জরুরি চিকিৎসার বিকল্প নয়।